অস্ট্রেলীয় খামার মালিকদের জন্য আশীর্বাদ বাণিজ্যযুদ্ধ

চীনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৃষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধে লাভবান হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার খামারিরা।

চীনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৃষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধে লাভবান হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার খামারিরা। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুসারে মার্কিন গরুর মাংস আমদানিতে একপ্রকার অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে চীন। এ পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার গবাদিপশু খামার ও রফতানিকারকদের সামনে বড় সুযোগ খুলে দিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশটির গরুর মাংস রফতানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এর আকার এক হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা ৬৬০ কোটি ডলার। এ সময় চীনে রফতানি বেড়েছে ৬৫ শতাংশে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বেড়েছে ৪৮ শতাংশ।

মূলত উচ্চমানের শস্যখাদ্যনির্ভর গরুর মাংসের ক্ষেত্রে চীনের বাড়তি এ চাহিদা দেখা যাচ্ছে। এটি অস্ট্রেলীয় মাংস খাতের জন্য একপ্রকার চমকপ্রদ ঘটনা। কারণ কূটনৈতিক বিরোধের জেরে পাঁচ বছর আগে ক্যানবেরার ওপর শাস্তিমূলক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বেইজিং। ওই পদক্ষেপ খাতটিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃষিপণ্য আমদানিকারক চীন। দেশটি এখন সেই অর্থনৈতিক প্রভাবকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

গত মার্চে মার্কিন গরুর মাংসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় বেইজিং। ওই সময় কয়েকশ মার্কিন মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানার রফতানি লাইসেন্স নবায়নের আবেদন অগ্রাহ্য করা হয়। ফলে চীনে মার্কিন গরুর মাংস রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অথচ গত বছর এ বাবদ লেনদেন হয়েছিল ১৫৫ কোটি ডলার।

অবশ্য মাংস রফতানি বন্ধ থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি চীন বা যুক্তরাষ্ট্র। কৃষি খাতের পরামর্শক সংস্থা গ্লোবাল অ্যাগ্রিট্রেন্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট স্টুয়ার্ট বলেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার হলো বিষয়টি নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। না মার্কিন সরকার, না চীনা সরকার। এক সকালে ওঠে দেখি, আমরা আর চীনে গরুর মাংস রফতানি করতে পারছি না।’

গরুর মাংষ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো ইঙ্গিতও নেই। ব্রেট স্টুয়ার্ট মনে করেন না যে আগামী ১০ নভেম্বরের নির্ধারিত বাণিজ্য বৈঠকের আগেই এ সমস্যা মিটবে।

এমন এক সময় চীনের মাংস আমদানির উৎস বদলে গেল, যখন বিশ্বজুড়ে গরুর মাংসের দাম আকাশছোঁয়া। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গরুর মাংস সূচক সেপ্টেম্বরে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এর কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যটির তীব্র চাহিদা।

আরও